পর্ব -১: গণপূর্তে মিডিয়া ও লিয়াজোঁ উইংস শুধুই নামে!

0
112
#

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তরে মিডিয়া উইংস ও লিয়াজো কমিটি আছে। আছে অধিদপ্তরটির প্রধান প্রকৌশলীসহ অন্যান্য ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের প্রেস ব্রিফিংয়ের নির্ধারিত রুম। গণমাধ্যমে সহজে ওই দফতরের সব খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্যই উংসটি চালু করা হয়। চলতি বছরে মো: আশরাফুল আলম প্রধান প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বে আসার পরেই “ মিডিয়া ও লিয়াজোঁ” নামক উইংসটি চালু করেন গণপূর্তে। বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও গণপূর্তের ওই বিশেষ শাখা কোন কাজে আসেনি গণমাধ্যমের। ভবিষ্যত নিয়ে দেখাও মিলছে না কোন সুফল। নামেই চলছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘মিডিয়া ও লিয়াজোঁ’ নামক কমিটি।

গণপূর্তের ওই উইংসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের পেশাগত তথ্য পেতে দ্বায়িত্ব প্রাপ্তদের কাছ থেকে কোনো সহযোগীতা পাচ্ছেন না। সংবাদ পরিবেশনের জন্য পূর্ণাঙ্গ কোন তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও নানা বাহানা দেখিয়ে থাকে ‘উইংসে’র কর্মকর্তরা।

#

এদিকে ওই অধিদপ্তরের মিডিয়া উইংসের দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাদের অজ্ঞতা ও অপেশাদারিত্বের কারনেই যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণমাধ্যমকে অবহিত করতে চাইলে সঠিক ভাবে সম্ভব হয় না। এসব মিলে সম্পর্ক স্থাপনে সংবাদকর্মী ও মিডিয়া উইংস এবং লিয়াজোঁ কমিটির মধ্যে ‘হযবরল’ অবস্থা।

জানা গেছে, গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য জনিত নানা সুবিধার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরে ‘মিডিয়া উইংস এবং লিয়াজো’ শাখা চালু করেন প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম। তিনি সুবিধা নিতে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে নিজ সমর্থিত ৬ সদস্য ওই কমিটি গঠন করেন। আহ্বায়ক করে দায়িত্ব দেন তত্ববধায়ক প্রকৌশলী পারভেজ খাদেমকে। তবে নামে মাত্র গণপূর্তের ‘মিডিয়া উইংস এবং লিয়াজো’ শাখার আহবায়ক করা হয়েছে পারভেজ খাদেমকে। প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে ওই দায়িত্ব পালন করছেন ই/এম বিভাগের একজন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। অভিযোগ উঠেছে, ই/এম বিভাগের ওই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দিক নির্দেশে প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের মিডিয়া উইংস স্টাফ অফিসার ও উপ-প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার কুন্ডু পছন্দের কিছু সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক সহ অন্যান্য সুবিধা দিয়ে থাকেন।

গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদফতরের বিভিন্ন শাখার উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে কথা বলতে আগ্রহ দেখান না। সংবাদ কর্মী পরিচয় পেয়ে ওই সব কর্মকর্তারা তাদের স্টাফ অফিসার ও ব্যক্তিগত কর্মচারিরা মিডিয়া উইংসের দফতরে পাঠিয়ে দেন। স্যার ব্যস্ত, মিটিংয়ে আছেন এমন নানা অজুহাত দেখিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখেন মিডিয়া উইংস কর্মকর্তরা। সবশেষে কোন তথ্য এবং কর্মকতাদের দেখা না পেয়ে বাধ্য হয়ে চলে আসেন গণমাধ্যম কর্মীরা। অথচ, গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরীর কথা বলে প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের মিডিয়া ও লিয়াজোঁ উইংস গঠন শুধু নামে, কোন কাজেই নেই!

জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদফতরের মিডিয়া উইংস এবং লিয়াজো কমিটির আহবায়ক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: পারভেজ খাদেম বলেন, প্রকল্প বিষয়ক কোন তথ্যর বাইরে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায় থেকে নিষেধ আছে। তিনি বলেন, মিডিয়া ও লিয়াজোঁ উইংসের কাজ সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করা। অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তার কাছে সাংবাদিকেরা তথ্য সংক্রান্ত যে কোন কাজের জন্য যেতে চাইলে সহযোগীতা করা।

এক প্রশ্নের জবাবে খাদেম বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে যেকোন সাংবাদিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে যেতেই পারেন। তবে মিডিয়া ও লিয়াজোঁ উইংসের মাধ্যমেই যেতে হবে সাংবাদিকদের। তিনি আরো বলেন, অধিদপ্তরের কাজের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারি না। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সাংবাদিকদের তথ্য সংক্রান্ত কোনো সহযোগী এখনো করতে পারছি না।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের বক্তব্য নিতে তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভি করেননি।

বিএইচ/নিলীমা/

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here