ইউসিবি চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে চক্রান্তের জাল

0
30
#

নিজস্ব প্রতিবেদক

মর্যাদাপূর্ণ পরিবারের সন্তান হওয়া, জনসেবা করতে গিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন ও স্থানীয় পর্যায়ে বড় ভাইয়ের রাজনৈতিক ইতিবাচক অবস্থান- এসব মিলে চরম পর্যায়ের ইর্ষার পাত্রে পরিণত হয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী। পদে পদে তাকে নানা রকম ফাঁদে ফেলে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে উঠে পড়ে লেগেছে কতিপয় দুর্বৃত্ত। যারা নিজস্ব প্রজ্ঞা দিয়ে নিজেদের উপরে তুলতে না পারলেও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য অবস্থানে থাকা বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের টেনে-হিচড়ে নিচে নামাতে নানাবিধ চক্রান্তের জাল বুনে চলছে। ওই ধুরন্দর চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে, একজন সাংবাদিককে মিথ্যা গুমের নাটক সাজিয়ে আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। যদিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচক্ষণীয় তদন্তে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়।

#

সূত্র মতে, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর জন্মস্থান, বেড়ে ওঠাসহ সবকিছুই চট্টগ্রামে। বাবা মরহুম আকতারুজ্জামান ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। বলা চলে, এ পরিবারের সদস্যরা রক্তের মধ্যেই বয়ে বেড়ান মানবসেবার ব্রত। যে কারণে বাবার মত আনিসুজ্জামানের বড় ভাইয়ের জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে তার নিজ এলাকায়। বড় ভাই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাতীয় সংসদের সদস্য এবং ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, জন্ম থেকেই বিত্ত-বৈভবের মধ্যে বড় হওয়া এই দুই ভাইয়ের জনপ্রিয়তা যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় স্বগোত্রীয় রাজনীতিকদের কাছে। বংশগতভাবে অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রতি আঙ্গুল তোলা হচ্ছে অন্যের জমির দখলবাজ হিসেবে। যা অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

ভূমিমন্ত্রী এবং তার বিশিষ্ট শিল্পপতি ভাইকে বেইজ্জতি করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে ওই চক্রটি। তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গণমাধ্যমকে। বিশেষ করে মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অসংলগ্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপসাংবাদিকতার শিকার আনিসুজ্জামান চৌধুরী বাধ্য হয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশকারী পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করতেও বাধ্য হন। চট্টগ্রামে যার সি.আর মামলা নং ২১৭০/২০২০ (কোতোয়ালী), তারিখ ০৯/১২/২০২০ইং। ধারা-৫০০/৫০১/৫০২ সঃ বিঃ।

মামলার বিবাদীরা হলেন- চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইন্তেখার, ওই পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক ও প্রকাশক আয়ান শর্মা এবং সিটি নিউজের নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম সরোয়ার। মামলাটি বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২য় আদালত চট্টগ্রাম, অনুসন্ধানের জন্য পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রোকে নির্দেশ প্রদান করে। পিবিআই প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধানে এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সংবাদ অসত্য বলে প্রমাণ পেয়েছে।

আনিসুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষে আমমোক্তার কাজল কান্তি দে’র দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৩ নম্বর বিবাদী গোলাম সরোয়ার তৈরি করা একটি সংবাদ ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রতিদিন অনলাইনে সংবাদ প্রচার কর হয় যার শিরোনাম ছিল ‘চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীর জায়গায় ভূমি মন্ত্রীর ভাইয়ের কুদৃষ্টি’। ওই সংবাদে বলা হয়- ‘চট্টগ্রাম নগরের সাার্জন রোডের জেএস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জায়গা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী। এমনকি সেখানে নির্মাণ কাজ করতে গেলে হত্যা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন আনিসুজ্জামান, এমনটা দাবি করা হয়েছে সংবাদে।’ ঘটনা চক্রে সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারের বাসাও এই এলাকাতেই। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ করা হয় যে, ‘সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার বাসা থেকে থেকে বের হওয়ার পর তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইঙ্গিত করা হয়, আনিসুজ্জামান চৌধুরী তাকে গুম করেছে।’

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তেও ওই সংবাদের অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের তদন্তে উঠে আসে যে, মামলার ১ ও ২ নম্বর বিবাদী ২০২০ সালের ২৪ অক্টোর বাদী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মানহানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করেন।

সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে ও পিবিআইসহ বিভিন্ন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঘেটে পাওয়া গেছে যে, ওই জমির প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ মেজবাউদ্দৌলা ২০১১ সালের ২৭ জুন তারিখে জেএস কনাস্ট্রাকশন লিমিটেডের সাথে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত একটি চুক্তি করেন। পরবর্তীতে তিনি জেএস কনস্ট্রাকশন বরাবর একটি পাওয়ার অব এটর্ণি প্রদান করেন। কিন্তু জেএস কনস্ট্রাকশন চুক্তি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত কোন কাজ না করে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেন। এরপরও ওই জমি দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে ছিল। পাওয়ার অব এটর্ণি আইন-২০১২ মতে পূর্বে প্রদত্ত পাওয়ার অব এটর্নি বাতিল পূর্বক নোটিশ প্রদান করেন জমির মালিক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দৌলা। ২০১১ সাল থেকে অপেক্ষার পর ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ২৭ জুন পাওয়ার অব এটর্ণি প্রত্যাহার করেন। এরপর জমির মালিক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দৌলা চৌধুরী ২০২০ সালের ৮ অক্টোর আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরীর কাছে ওই জমি বিক্রির পরে দখল হস্তান্তর করেন।

অর্থাৎ, অন্যের জমি দখলের চেষ্টা নয়, নিজ অর্থে কেনা জমিরই দখল বুঝে নিয়েছে আনিসুজ্জামান চৌধুরী। এ ছাড়াও তাকে ফাঁদ পেতে বেকায়দায় ফেলতে কুচক্র মহলের আরও নানাবিধ চক্রান্তে চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here