খুলনার সাংবাদিক বাবুল আক্তারের নিরব চাঁদাবাজি

0
23
#

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

খুলনাজুড়ে বাবুল আক্তার সাংবাদিকতার নামে চালিয়ে যাচ্ছেন নিরব চাঁদাবাজি। স্বল্পশিক্ষিত এই চাঁদাবাজ বাবুল আক্তার দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পরিচয় দেয়। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাইনবোর্ড হিসাবে ব্যবহার করে সকাল থেকে রাত অবধি ধান্দায় থাকে, কোন জায়গায় কার দুর্বলতা আছে। সেই দুর্বলতাকে পুঁজি করে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়ে। এতে কলুষিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করছে সাংবাদিকতার মহান পেশাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলায় যেয়ে সনামধন্য তিনটি বেসরকারি টেলিভিশনে একটি সংবাদ প্রকাশ করার কথা বলে খরচ বাবদ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পনেরো হাজার (১৫০০০) টাকা নেওয়া হয়।

#

কিন্তু সেই সংবাদ প্রকাশ করেন শুধু মাত্র একটি টেলিভিশন চ্যানেলে। এদেখে ভুক্তভোগী বাবুল আক্তারকে বলে, যেহেতু আপনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশ করেছেন তাহলে আপনি খরচ বাবদ পাচ হাজার (৫০০০) টাকা রেখে বাকী টাকা আমাকে ফেরত দিন। এতেই ক্ষিপ্ত হন বাবুল আক্তার। ভুক্তভোগীর উপর করতে থাকেন মিথ্যা নানা অভিযোগ। এমনি তাকে রাজাকার জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট বলে ফাসিয়ে প্রশাসন দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর ভয়ও দেখান তিনি। সম্প্রতি বাবুল আক্তারের ফেসবুকে কমেন্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ঐ যুবকের কথোপকথন হাতে আসে এই প্রতিবেদকের। তাদের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হুবহু তুলে ধরা হল- ভুক্তভোগীঃ সবাই কি আপনার মতো। আপনাকে একটা নিউজ করার জন্য নিয়ে আসছিলাম। কথা ছিল ৩টা টিভিতে নিউজটা প্রচার করতে হবে। ১৫০০০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। প্রচার করছিলেন ১টাতে। বাবুল আক্তারঃ কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে রিপোট (রিপোর্ট- বানানটিও তিনি ভুল লিখেন) করার ইতিহাস নেই।

ভুক্তভোগীঃ সেতো আমি জানি আমার কাছ থেকে নিয়েছেন না? তাহলে কি করে বলছেন টাকা নেন না। বাবুল আক্তারঃ আমি ফেসবুকে তোমার সাথে খারাপ কথা বেলতে (বলতে- এখানেও তিনি বানান ভুল লিখেন) চাই না। বাকী কথোপকথনও সংরক্ষিত আছে এই প্রতিবেদকের কাছে। টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ঐ যুবক বলেন, এখন বিষটা হচ্ছে ভাই সে যখন আমার কাছ থেকে নিউজ পারপাসে একটা টাকা নিছে, যখন সে নিউজ না করে তখন তো সে টাকা তাকে ফেরত দিতে হবে। এই টাকা চাওয়াতে সে আমাকে হুমকি ধামকি দেয়। তারপর থেকে আমি তার ফোন রিসিভ করি না বা যোগাযোগও করি না। আমি অবশ্যই এটার প্রতিকার চাই। খোজ নিয়ে আরও জানা যায়, নিজের মেয়ের বয়সী এক মেয়েকে এবং তার মাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করে প্রতারক বাবুল ঐ সংসার ও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি নারী কেলেঙ্কারির দায়ে।

প্রতারক বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে নারী কেলেঙ্কারি, নারী ও শিশু পাচার চুরিসহ মামলাও হয়েছে। তাতে দীর্ঘদিন জেলও খাটেন। কিন্তু এই ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাই না ভুক্তভোগী পরিবার। হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ফায়দা হাসিল করাই তার মূল কাজ। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন প্রকার মামলা দিয়ে সর্বস্বান্ত করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। করোনা কালে এক নারী চিকিৎসককে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। শুধু প্রেম নয়, বিয়ে করার জন্য কালা হুজুর নামের এক ধার্মিক যাযকের কাছ থেকে তদবির (তাবিজ) নিয়েছিলেন তিনি।

তবে তাবিজে ঠিকঠাক মত কাজ না হওয়ায়, ওই হুজুরকে নিয়মিত হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছেন সেই কথিত প্রেমিক সাংবাদিক। আতঙ্কিত কালা হুজুর তার ভয়ে পালিয়েছিলেন বেশ কয়েকদিন। যেটি খুলনা সাংবাদিক অঙ্গনে ওপেন-সিক্রেট। এছাড়াও মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদও প্রচারিত হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর প্রতারক চাঁদাবাজের হাত থেকে পরিত্রান চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here