উজিরপুরের গুঠিয়া ইউপি নির্বাচন সাজা গোপন করায় হাইকোর্টেও টেকেনি প্রার্থীতা

0
45
#

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় হাইকোর্টেও প্রার্থীতা টেকাতে পারেননি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস ছত্তার মোল্লা। তার বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠলে শুনানি শেষে গত ১০ নভেম্বর তার প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম। এরপর প্রার্থীতা ফিরে পেতে বাতিল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মামুনুর রহমান ও খন্দকার দেলোয়ার উজ্জামানের বেঞ্চ নথিপত্র যাচাই শেষে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এর মধ্য দিয়ে আব্দুস ছত্তার মোল্লার প্রার্থীতা চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষিত হল।

#

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস ছত্তার মোল্লা উপজেলার গুঠিয়া ইউনয়নের পাথুনিয়াকাঠী এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০০০ সালে বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নে একটি বাড়িতে ডাকাতি ও জুলেখা বেগম নামে এক নারীকে হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি তিনি। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নিম্ন আদালত ছত্তার মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দেন। দীর্ঘ ৬ বছর কারাভোগের পর ২০০৯ সালে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান আব্দুস ছত্তার মোল্লা। হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ছত্তার মোল্লাকে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করলে তা চ্যালেঞ্জ করে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আপিল করেন গুঠিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন। আপিলের শুনানি শেষে ১০ নভেম্বর রাত ৯টায় ছত্তার মোল্লার প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম।

তখন আব্দুস ছত্তার মোল্লা দাবি করেন, ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্ট ওই রায় স্থগিত করায় নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। সেই দাবি নিয়ে তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে তিনি মামলায় সাজা স্থগিত হয়েছে মর্মে কাগজপত্র জমা দেন। হাইকোর্ট সেসব নথি যাচাই করে দেখতে পান, তার সাজা স্থগিত করা হয়নি। তিনি কেবলমাত্র জামিন পেয়েছেন। কিন্তু সাজা স্থগিতের ভুয়া কাগজ তৈরি করে নির্বাচনী হলফনামায় এবং হাইকোর্টেও জমা দিয়েছেন। এ কারণে করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তার প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে ছত্তার মোল্লার নথি জালিয়াতি ধরা পড়লে বিচারপতিদ্বয় তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে ছত্তার মোল্লার পক্ষে থাকা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুর আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলে বিচারক তাকে ক্ষমা করে দেন।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ওই ইউপিতে আর নৌকার প্রতীকের কোন চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকল না। এতে করে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়ে শুনানিতে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম জানিয়েছিলেন, একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে সাজার রায় হওয়ার পর উচ্চ আদালতে যান গুঠিয়া ইউপিতে নৌকার মনোনিত প্রার্থী আব্দুস ছত্তার মোল্লা। সেখান থেকে তাকে জামিন দেওয়া হলেও ওই সাজার রায়ের বিষয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত আসেনি। অর্থাৎ সাজার রায়ের বিষয়ে স্থগিত বা বাতিলের কোনো আদেশই দেয়নি উচ্চ আদালত। তাই নির্বাচন বিধিমাল অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউপিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৩৮৫ জন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৭৩০ জন পুরুষ ও নারী ভোটার ১০ হাজার ৬৫৫ জন।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here