বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সাদেকা হালিম!

0
191
#

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গবেষণা চুরির দায়ে অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম নানা কারণে আলোচিত এবং সমালোচিত। সম্প্রতি গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গবেষণা চুরির অভিযোগের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সাদেকা হালিমের পারিবারিক পরিচিতসহ বিভিন্ন সময়ের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।

#

অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বাবা ফজলুল হালিম চৌধুরী ১৯৭৬ থেকে ৮৩ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা প্রায় ৬ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আশির্বাদপুষ্ট সাবেক এ উপাচার্যের নাম মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা রাখার কারণে ৪র্থ ক্যাটাগরির দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায়। অবৈধ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যও করা হয়েছিল সাদেকা হালিমের পিতাকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত এবং পাকসেনাদের তিনি সরাসরি সমর্থনও দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে অকাট্য দালিলিক প্রমাণও ভোরের পাতার হাতে রয়েছে।

একাত্তরের বিতর্কিত ভূমিকা পালন করা ফজলুল হালিম চৌধুরীর কন্যা একসময় বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দল করলেও এখন পুরোদুস্তর অনুপ্রবেশকারী হিসাবে শিক্ষক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগ থেকে শুরু করে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের উপর ব্যক্তিগত রোষানলে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাত্র রাজনীতি নিয়ে নানা সময় বিদ্রুপ মন্তব্য করা সাদেকা হালিম নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির লোক হিসেবে বাইরে নিজেকে জাহির করলেও গোপনে জামায়াত-বিএনপির একজন পৃষ্ঠপোষক বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে সময়ের সাথে খোলস পাল্টে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বেপোরোয়া আচরণও করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম নারী ডিন হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে থেকেই আগে থেকেই বেপোরোয়া ও উদ্ধত আচরণে অভ্যস্ত। নিজ বিভাগের সহকর্মী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন যৌক্তিক একটি দাবি তোলার পর ২০১৭ সালে তিনি মারমুখি হয়ে ওঠেছিলেন। সরাসরি গায়ে হাত না তুললেও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষটির বরাদ্দ বাতিল করে দেন। এটাকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ৪ মার্চ গবেষণা জালিয়াতির ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছে একযোগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগকারী একাধিক শিক্ষককে পরোক্ষভাবে হুমকি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ যেন সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন না করে, এই চাপও দিয়েছিলেন। খোদ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একজন শীর্ষ নেতাকে ২ লাখ টাকা দিয়ে বিয়ষটা ধামাচাপা দেয়ারও প্রলোভন দেখান সাদেকা হালিমের লোকজন। কিন্তু আদর্শিক কারণে একজন রাজকার কন্যার সেই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আল মামুন  বলেন, একজন গবেষণা চোরের দায়ে অভিযুক্তকে কোনো ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের সম্মান নিয়ে যারা নগ্ন হস্তক্ষেপ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সব সময়ই সোচ্চ্বার ভূমিকা পালন করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি আমলে না নিলে ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে তাকে বাধ্য করা হবে। যুক্তি হিসাবে সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী যখন কোনে অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তখন তার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারলে, গবেষণা চুরির মতো গর্হীত কাজের অভিযোগের পরও কেন তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে না তা নিয়ে রহস্য রয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ বিশ্বাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিবেন এবং তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন সাদেকা হালিমের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির সংবাদ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গনমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত চেয়ে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বরাবর আবেদন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশতাক আহমেদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা আখতার ও খালিদ হাসান। তবে তাদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য সাদেকা হালিম ‘চাপ’ প্রয়োগ করছেন বলে জানিয়েছে এই শিক্ষকরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশতাক আহমেদ বলেন, সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন ও ডাক্তারদের সংগঠন থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য। এসব বিষয় নিয়ে আমি খুব মানসিক চাপে রয়েছি।

অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে বিষয়টির তদন্ত চেয়ে আবেদন করেছি। যত চাপ আসুক আমি অভিযোগ প্রত্যাহার করব না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা আখতার ও খালিদ হাসানকেও অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষণা চুরির অভিযোগের প্রতিবেদন প্রকাশের পর অধ্যাপক সাদেকা হালিম একটি প্রতিবাদ লিপি পাঠান। যা হুবুবু  প্রকাশ করা হয়। যদিও প্রতিবাদ লিপিতে নিজের অবস্থান ব্যাখার করার পাশাপাশি তিনি নিজের পদবী ভুল লিখেছিলেন। এক জায়গায় সাদেকা হালিম নিজেকে ডিন হিসাবে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ভারপ্রাপ্ত ডিন।  এছাড়া তিনি ব্যারিস্টার জ্যের্তিময় বড়ুয়ার মাধ্যমে ভোরের পাতার সিনিয়র প্রতিবেদক উৎপল দাসকে আইনী নোটিশ পাঠান।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কথা বলেছেন সাদেকা হালিমকে নিয়ে। তারা একই সুরে বলেছেন, তিনি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো একজন মানুষ। মুখে মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসা করলেও গোপনে তিনি বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সাথেই কাজ করেন। তার এই গবেষণা চুরির বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তারা সাদেকা হালিমের খুঁটির জোর কোথায় সে প্রশ্নও তুলেছেন।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী গুটি কয়েকজনের ছত্রছায়াতেই বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং শিক্ষক রাজনীতিতে নোংরামির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই সাদেকা হালিম। তাকে পেছন থেকে শক্তি যোগাচ্ছেন যারা তাদেরও তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

এদিকে ২২ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় ‘সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন নিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবাদলিপি পাঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। ওই প্রতিবাদলিপিটি পর্যবেক্ষণ তথা যাচাই-বাছাই করে ছাপা হওয়ার আগেই ৯ দিনের মাথায় গত ৪ মার্চ অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদের পক্ষে দৈনিব ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসান, দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব, প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, ভোরের পাতার সিনিয়র প্রতিবেদক উৎপল দাস এবং দেশ রূপান্তরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তানভীর হাসানকে একটি লিগ্যাল নোটিস (উকিল নোটিস) পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্যাডে ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. সাদেকা হালিম স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, “সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের প্রকাশনায় গবেষণা চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদনে কে, কোথায়, কবে অভিযোগ করেছেন তা উল্লেখ করা হয়নি। নাম প্রকাশ না কওে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক’-এর বরাতে কোনো ধরনের তথ্যসূত্র ও প্রমাণ ছাড়াই গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের মতো একাডেমিক বিষয়ে মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করা কোনো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভাষা হতে পারে না।”

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, ‘২০১২ সালে ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার সার্ভিসেস (আই.ডি.ও.এস আই নম্বর ১৮১৭, ৩০৪৭)-এ প্রকাশিত মো. কাউসার আহমেদ, সাদেকা হালিম, শামিমা সুলতানার সম্মিলিত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গবেষণা প্রবন্ধে ৬৪ শতাংশ তথ্য ও লেখা হুবহু মিল পাওয়া গেছে, যে তথ্যটি সঠিক নয়। কারণ এই লেখাটি ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এখন অর্থাৎ ২০২১ সালে Similarity (%) চেক করার সময় তার নিজের প্রকাশিত প্রবন্ধ (সোর্স প্রবন্ধ) থেকে ৬১% সিমিলারিটি দেখাচ্ছে। তাছাড়া যেসব আর্টিকেল, রিপোর্ট বা মনোগ্রাফ আমাদের আর্টিকেলটি প্রকাশিত হওয়ার পরে অর্থাৎ ২০১২ সালের অনেক পরে প্রকাশিত হয়েছে এবং আমাদের আর্টিকেল থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছে, এবং ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি উৎস রয়েছে যেগুলো Plagiarism চেক করার সময় বাদ দিলে এই আর্টিকেলটির Similarity ২০ (%)-এর কম, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং গ্রহণযোগ্য।’

প্রতিবাদলিপির শেষে বলা হয়, ‘উল্লেখিত প্রতিবেদন নানা অসঙ্গতিতে পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য। বিশেষায়িত জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত বোধগম্যতা থাকা এই ধরনের প্রতিবেদন তৈরির পূর্বশর্ত।’

প্রকৃতপক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষকের ওই গবেষণাপ্রবন্ধটি প্ল্যাজিয়ারিজম বা কুম্ভীলকবৃত্তি বা চৌর্যবৃত্তি শনাক্ত করার সফটওয়্যার ‘টার্নইটইন’র মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। টার্নইটইনে প্রবন্ধটি যাচাইয়ের প্রতিবেদনের অনুলিপি দেশ রূপান্তরের কাছে রয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রবন্ধটির ৮৮ শতাংশের সঙ্গে বিভিন্ন জার্নাল ও আর্টিকেলে প্রকাশিত লেখার মিল রয়েছে। যেগুলো ওই গবেষণা প্রবন্ধটি প্রকাশের আগেই প্রকাশিত হয়েছে। টার্নইটইনে করা যাচাই প্রতিবদেনের তথ্যই ওই সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। টার্নইটইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই গবেষণাপ্রবন্ধের ৮৮ শতাংশ নকলের মধ্যে Idosi.org নামে একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে ৬১ শতাংশ নকল করা হয়েছে। এ নিবন্ধটি ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া bfrf.org ও bangladesh.nlembassy.org -এ প্রকাশিত দুটি নিবন্ধ থেকে ৮ শতাংশ করে ১৬ শতাংশ, shrimpfoundation.org ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখা থেকে ৩ শতাংশ এবং csd.ulab.edu.bd-এ প্রকাশিত লেখা থেকে দুই শতাংশ নকল করা হয়েছে। বাকি অংশ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা থেকে কপি করা হয়েছে। ১৬ পৃষ্ঠার ওই যৌথ নিবন্ধটির প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, একাদশ এবং চতুর্দশ পৃষ্ঠার পুরোটাই নকল করা। আর তৃতীয়, পঞ্চম, দশম, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ পৃষ্ঠার কিছু অংশ নকল আর বাকি অংশ তাদের মৌলিক লেখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া গবেষণায় কুম্ভীলকবৃত্তি বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের বিষয়ে ড. সাদেকা হালিমের সহগবেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং আরেক গবেষক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে কয়েক দফা টেলিফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি, প্রতিবেদনে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং তথ্যসূত্র ও প্রমাণ ছাড়াই প্রতিবাদলিপিতে করা মনগড়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ আদৌ সঠিক নয়।

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদের পক্ষে গত ৪ মার্চ পাঠানো উকিল নোটিসে বলা হয়, নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘ক্ষমা চেয়ে’ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ‘ক্ষমা চেয়ে’ দুজনের কাছে আলাদাভাবে চিঠি পাঠাতে হবে। এছাড়া এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও লিখিতভাবে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। উকিল নোটিসে বলা এসব দাবি অযৌক্তিক হওয়ায় তা করার প্রশ্ন ওঠে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাদেকা হালিমকে ফোন করা হলে এ প্রতিবেদকের ফোনকলটি কেটে দেন।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here