ডিপিডিসি প্রকৌশলীর দুর্নীতি তদন্তে গড়িমসি

0
106
#

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) বনশ্রী আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার পরিবর্তনসহ যে কোনো কাজই টাকা ছাড়া কাজ হচ্ছে না। সম্প্রতি একটি নতুন সংযোগের নামে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

#

এ ঘটনা জানাজানি হলে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হলেন ডিপিডিসি’র মগবাজার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক (এসি) প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান শামীম। দুই সদস্য হলেন- খিলগাঁও ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোশারফ হোসাইন এবং বাসাবো সার্কেলের সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ গোলামোর রহমান।

অভিযোগ উঠেছে- সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে তদন্ত কমিটির কাছে ঘুষের বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তোড়জোর শুরু করেছেন অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান। পাশাপাশি এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে তদন্ত কমিটি মনগড়া রিপোর্ট দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

জানা গেছে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে আসা দক্ষিণ বনশ্রীর মোঃ সিদ্দিকুর রহমান নামের গ্রাহক ডিপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ানের কাছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ করেন। এর ফলশ্রুতিতে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মোঃ গিয়াস উদ্দিন জোয়ার্দারের স্বাক্ষরিত ২৪/০২/২০২১ তারিখে (পত্রের স্মারক নং- ৮৭.২০১.৪৪৪.০০.০০.০২০.২০১৪.১৪৪) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু ১০ দিনে ৬ কর্মদিবস পার হলেও তদন্ত কমিটির কেউ ঘটনা তদন্তে ঘুষ প্রদানকারী গ্রাহকের কাছে যায়নি। বরং গ্রাহককে ম্যানেজ করতে নানা কৌশল নিয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমান। এমনকি সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন তিনি। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক সংবাদকর্মীর হাতে উৎকোচ হিসেবে ৫শ’ টাকার বান্ডেলও দিয়েছিলেন মুজিবুর। কিন্তু ওই সাংবাদিক ধমক দিয়ে মুজিবুর রহমানকে টাকা ফিরিয়ে দেন।

সূত্র বলছে, বনশ্রী ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমান প্রতিটি সংযোগে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব সংযোগ নিতে সব মিলিয়ে খরচ হওয়ার কথা ৪৬ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকার মত। বাড়তি টাকা না দিলে সংযোগ পায় না গ্রাহকরা। এমন অভিযোগের অন্ত নেই মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেই বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে তদন্ত কমিটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সাংবাদিক বলেন, বনশ্রী ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমান আমাকে ফোন করে দেখা করেন এবং তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। হঠাৎ করে ৫শ’ টাকার বান্ডেল আমার হাতে তুলে দেন। আমি তার মুখের উপরে টাকা ছুড়ে দিয়ে চলে যেতে বলি।

নতুন সংযোগ গ্রহণকারী তেলের ঘানি বন্ধু-স্বজন কনজ্যুমারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়ির মালিক বিদ্যুৎ সংযোগের সব কাজ করেছেন তিনি নিজেই। কত টাকা খরচ হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাড়ির মালিক বলেছিলেন ১ লাখ টাকার উপরে খরচ হবে। তবে তিনি কার মাধ্যমে সংযোগ এনেছেন তা জানা নেই।

অভিযুক্ত বনশ্রী ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেই না। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু নয়। আমার অফিসের লোকজনই ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ডিপিডিসি’র মগবাজার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক (এসি) প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান শামীম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রোববার এ নিয়ে একটি বৈঠক আছে। তার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে ছাড় পাবে না অভিযুক্ত। এর সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেই বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য খিলগাঁও ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোশারফ হোসাইন বলেন, তদন্ত শেষ করতে পারিনি। তদন্ত শেষে সব বলতে পারবো।

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) ও অতিরিক্ত দায়িত্ব নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো: গিয়াস উদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, মুজিবুর রহমানের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান চাকমা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here