বিশ্বের বুকে শান্তির প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

0
335
#

আলদ্দিন ওয়াজেদ:

বিশ্বের বুকে শান্তির প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জন্মলগ্ন থেকেই দেশের সকল ধরনের দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা সংকটের মুহূর্তে সেনাবাহিনী জাতির পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বাহিনীর সদস্যরা বীর সেনানি রূপে অবতীর্ণ হয়েছে। ভয়াবহ বিপদ থেকে বহুবার জাতিকে রক্ষায় কাজ করেছে। শুধু আভ্যন্তরীণ সেবাই নয়, যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রের শান্তি রক্ষায়ও অবদান রেখে চলছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহসী সদস্যরা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সেনা সদস্যদের ভূমিকা সুনাম কুড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশ বর্তমানে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনা প্রেরণকারী দেশ।

#

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্থল শাখা হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এটি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্ববৃহৎ শাখা। প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে দেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহায়তায় প্রয়োজনীয় শক্তি ও জনবল সরবরাহ করা। পাশাপাশি যে কোনও জাতীয় জরুরি অবস্থায় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাংবিধানিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গঠন কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সেনাবাহিনীর মতই। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণালী, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং এনসিও শিক্ষা ব্যবস্থা আত্বীকরণের মধ্য দিয়ে এই অবস্থার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।

এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে সংস্থাটির সাফল্যগাঁথা বহু ঘটনার বিস্তারিত। শুরুতে জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শুরুর ইতিহাস:

বাংলার সামরিক ইতিহাস বিস্তৃত রয়েছে রাজা-মহারাজাদের আমল পর্যন্ত। তখন সেনাবাহিনীর প্রধানকে সেনাপতি বা মহাসেনাপতি ডাকা হতো। সেই সব সেনাবাহিনী গঠিত হত পদাতিক, অশ্বারোহী, যুদ্ধ হাতি আর যুদ্ধজাহাজ নিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড পাইওনিয়ার কোর নামক একটি সহায়ক বাহিনী প্রতিষ্ঠা করে যারা ছিলো কিছুটা প্রকৌশলী কিছুটা পদাতিক। এই বাহিনীর বেশিরভাগ সৈন্য সংগ্রহ করা হয়েছিলো পূর্ব এবং পশ্চিম বাংলা থেকে। এই বাহিনীকে বিভিন্ন কোম্পানিতে সংগঠিত করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিলো। ক্যাপ্টেন গনি ছিলেন একজন কোম্পানি কমান্ডার। যুদ্ধ শেষে পাইওনিয়ার কোরের সৈন্যরা ভারত ও জাপানের বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলো। পরবর্তীতে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় এবং ভারত ও পাকিস্তান নামক নতুন দুই রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার ফ্রাংক মেজারভি’র অনুমতি পাওয়ার পর ক্যাপ্টেন গনি পূর্ববাংলার সৈন্যদের নিয়ে বাঙালি পল্টন গঠন করেন যা ছিলো পরবর্তীতে গঠিত পদাতিক রেজিমেন্টের মূল ভিত্তি।

১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট বোম্বেতে পাইওনিয়ার কোরের সৈন্যদের বিদায় অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন গনি বলেন, “তোমরা পৃথিবীর কাছে প্রমাণ করে দেবে বাঙালি সৈন্যরা পৃথিবীর অন্যান্য জাতির মতই সক্ষম”। এইসব উৎসাহব্যঞ্জক কথার সঙ্গে ক্যাপ্টেন গনি ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুইটি পাইওনিয়ার কোম্পানি নিয়ে ঢাকায় ফিরে পিলখানায় (বর্তমান বিজিবি হেডকোয়ার্টার্স) অবস্থান নেন। পরবর্তীতে তিনি প্রশাসনের কাছে সৈন্যদের উপযুক্ত আবাসস্থল চান। তিনি রাজধানীর উত্তর দিকের কুর্মিটোলাকে সেনানিবাসের উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন। দিনের পর দিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সেখানে জংগল পরিস্কার করে ব্যারাক, প্যারেড গ্রাউন্ড ইত্যাদি গড়ে তোলা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পথিকৃৎ, ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ক্যাপ্টেন গনি ছিলেন এই ব্যাটালিয়নের সবকিছুর প্রধান তবে প্রথম কমান্ডিং অফিসার ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ভি জে ই প্যাটারসন। অফিসার কমান্ডিং ছিলেন মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী প্রথম ব্যাটালিয়নের গঠনের পর দ্বিতীয় ব্যাটালিয়ন স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় এবং ক্যাপ্টেন গনি সৈন্য সংগ্রহ শুরু করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৯ ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পতাকা উত্তোলিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মোট ৮টি ব্যাটালিয়ন গঠিত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে অসন্তোষ ছড়িয়ে পরে। ’৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরুর মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক জনগণের ওপর অত্যাচার শুরু করে। পাকিস্তানি বাহিনী এবং এর সহযোগী আধা-সামরিক বাহিনী হাজার হাজার সামরিক-বেসামরিক মানুষ হত্যা করে।

২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রদান করেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। মার্চ মাসেই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) সৈন্যরাও সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেয়। সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক জনগণ মিলে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। ১৭ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় এবং কর্ণেল (অব:) মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্বদানের দায়িত্ব দেয়া হয়।

১৯৭১ সালের ১১-১৭ জুলাই সেক্টর কমান্ডার্স কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এই কনফারেন্সে লে: কর্ণেল আব্দুর রবকে চিফ অফ স্টাফ, গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকারকে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এবং মেজর এ আর চৌধুরীকে অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশ বাহিনী কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ বাহিনীর সামরিক সদস্যদের নিয়ে। প্রতিষ্ঠার পর মুক্তিবাহিনীর গেরিলা যুদ্ধের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী প্রথাগত যুদ্ধ শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ৯ মাসব্যাপী চলা স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মুক্তি বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান ফেরত কর্মকর্তা ও সৈন্যদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এর আগে, ১৯৭২-৭৩ সালের মধ্যেই সেনাবাহিনীতে ইঞ্জিনিয়ার্স, সিগন্যাল, সার্ভিস, অর্ডন্যান্স, মিলিটারি পুলিশ, অশ্ব গবাদি পশুপালন ও খামার এবং মেডিক্যাল কোর গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম শর্ট কোর্সের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) গঠিত হয়।

পার্বত্যাঞ্চলের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী: পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসন এবং এ অঞ্চলে বসবাসরত উপজাতিদের অধিকার নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও এর সশস্ত্র শাখা শান্তি বাহিনী এর সামরিক এবং রাজনৈতিক সংঘাত। ১৯৭৭ সালে শান্তি বাহিনী বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। ২০ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯১ সালে পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এ ব্যাপারে অগ্রগতি ছিলো সীমিত। ১৯৯৬ সালে নতুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শান্তি আলোচনা গতি পায়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দশক ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটে। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এ অঞ্চলে থাকা অধিকাংশ সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেয়া হয়। তবে তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি স্থায়ী সেনানিবাসে তিন ব্রিগেড সৈন্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অবকাঠামো নির্মাণে সেনাবাহিনী এ অঞ্চলে মূল ভুমিকা পালন করে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা: বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা জাতিসংঘের প্রধান কাজ। এক দেশের সাথে অন্য দেশের বিরোধ নিরসন ও মধ্যস্থতায় জতিসংঘ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং জাতিগত দাঙ্গা মোকাবিলায় এরূপ পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকরী নয়। সেখানে নিরাপত্তার প্রশ্নে সামরিক শক্তি প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন গঠিত হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্বশান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বরাবরই সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। শান্তিরক্ষা মিশনে জাতিসংঘের আহবানে বাংলাদেশ প্রথম অংশগ্রহণ করে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে। সে যুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশংসাযোগ্য। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনী অংশগ্রহণ করলেও সেনাবাহিনীর ভূমিকাই প্রধান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র হলো ‘শান্তিতে আমরা, সমরে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’। কিন্তু আন্তর্জাতিক মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অবদান দেখলে মনে হয় সারা বিশ্বের সব দেশই যেন বাঙালি সেনাবাহিনীর নিজ দেশ। সকল দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষাই যেন তাদের কাজ। আর তাইতো বাংলাদেশ বর্তমানে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনা প্রেরণকারী দেশ। জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উল্লেখযেগ্য কার্যক্রমসমূহ হচ্ছে- নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাইন উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করা, নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করা, মানবিক সহায়তা প্রদান, স্থানীয় যুব সমাজকে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকতিস্বরূপ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সিয়েরা লিওন বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে, লাইবেরিয়া একটি সড়কের নাম রেখেছে বাংলাদেশ স্ট্রীট। এর থেকেও বড় স্বীকৃতি ও প্রাপ্তি হলো যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশসমূহের সাধারণ মানুষের মুখে ফুটিয়ে তোলা হাসি ও তাদের ভালোবাসা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনীর তৎপরতা: দুর্যোগপ্রবণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১০টারও বেশি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়েছে বাংলাদেশ। ঘুর্ণিঝড়, পানিবৃদ্ধিসহ বহু দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব সংকটের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিপন্ন-বিপর্যস্ত মানুষের পাশে খাদ্য, বস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়েছে।

রানা প্লাজা ভবন ধসে উদ্ধার কাজে সেনা:বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ভবন দুর্ঘটনা হলো সাভারের রানা প্লাজা ধ্বস। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধ্বসে ১১৩২ জন শ্রমিক নিহত ও ২৪৩৮ জন আহত হয়, যেটি স্মরণকালের ইতিহাসে ভয়াবহ একটি ঘটনা। এই দুর্ঘটনার পর পরই ভবন থেকে জীবিত-মৃত মানুষকে উদ্ধার করতে ছুটে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ:২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দ্বারা শুরু হওয়া গণহত্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতো সংখ্যক মানুষকে শৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণে বরাবরের মত ধৈর্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে খাদ্য বণ্টন, বাসস্থান নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে দিন-রাত কাজ করছে বছরের পর বছর ধরে।

করোনা পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা:বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির শুরু থেকেই দেশজুড়ে তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় সেনা সদস্যরা। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ এবং মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছে বাহিনী।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here