উঠছে ধোঁয়া, বাড়ছে মশা !

0
98
#

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘বিকেল হলে শুনি ফগার মেশিনের বিকট আওয়াজ। সেখান থেকে ধোঁয়া বের হয়। তবে মশা মরে না। সন্ধ্যা হলে ঠিক কামড়াতে শুরু করে। রাতে মশারি ছাড়া ঘুমানো যায় না।’ কথাগুলো খিলক্ষেত উত্তর নামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাজমিন আক্তারের। উত্তর নামাপাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এই ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। এ ছাড়া ডিএনসিসির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার, ছোলমাইদ এলাকায় মশার উপদ্রব।

#

খিলক্ষেত উত্তর নামাপাড়ার বাসিন্দা মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, বিকেল হলেই বাসায় মশা বেড়ে যায়। সন্ধ্যা নাগাদ তা চরমে পৌঁছে। মশার জ্বালায় কোথাও বসা যায় না। আগেভাগে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়। নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. এসকেন্দার বলেন, শীত মৌসুমের শেষে হঠাৎ মশা বেড়েছে।

মশা মারতে সিটি করপোরেশনের এমন বায়ু ও শব্দ দূষণের পরেও মশার দৌরাত্ম্য কমছে না। বরং ধোঁয়ার মধ্যে মশাদের ওড়াউড়ি যেন আরো বেড়ে যায়।

স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, অভিজাত এলাকায় যদি সপ্তাহে দুবার দেওয়া হয় তাহলে অন্য এলাকাগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। আইসিডিডিআর,বি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বার বার বলার পরেও ওষুধের কার্যকারিতার বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি। এটি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়।

মশা মারার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু তাতে কোনো সফলতা আসছে না। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারতে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হলেও মশা মরছে না। এ নিয়ে বেকাদায় রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি মশা নিধনের জন্য। নতুন কোনো পদ্ধতিতে করা যায় কিনা সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জোবায়দুর রহমান বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী মশা নিধনে কাজ করছে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।

মশক নিধন কর্মীরা বলেন, টায়ার, খালি ক্যান থেকে মশার বংশ বিস্তার হতে থাকে। এ সব স্থানকে চিহ্নিত করে মশা নিধনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারা সম্ভব হয় না। কারণ, মশা অনেক ‘চতুর’। তারা মেশিনটির বিকট শব্দ শুনলেই পালিয়ে যায়। তাছাড়া, ৭০ শতাংশ মশা নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ছাদে তৈরি বাগানে জমে থাকা পানিতে জন্মায়। এসব স্থানে ডিসিসির কর্মীদের ওষুধ ছিটানোর অনুমতি নেই। এ জন্য মশার বংশবিস্তার রোধে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে।

জানা গেছে, হস্তচালিত মেশিনগুলো দিয়ে ওষুধ ছিটানো হলে সঙ্গে সঙ্গেই মশা মরে যায়। কিন্তু এই মেশিন দিয়ে দ্রুত কাজ করা যায় না। আর ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা হলে অল্প সময়ে বিশাল এলাকায় ওষুধ ছিটানো সম্ভব। কিন্তু এই মেশিনের বিকট শব্দে মশা আগেই পালিয়ে যায়। যে কারণে কাজে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া এই যন্ত্রগুলো দিয়ে শুধুমাত্র মাটিতে ফগিং করা হয়। বাসাবাড়ির ভেতরে কর্মীরা যেতে পারেন না। ফলে বেশিরভাগ মশা বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থা নেয়। যে কারণে এর বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here