সাকিবের শটে অস্বস্তি

0
178
#

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাঠে গিয়ে প্যাড-গ্ল্যাভস পরতে দেরি করেননি তামিম ইকবাল। দ্রুত তৈরি হয়ে সেন্টার উইকেটে চলে যান। সেখানে পেসারদের বলে অনুশীলন শুরু করলেন। করলেনও লম্বা সময়। সাকিব আল হাসান তখন উত্তর-পশ্চিম কোণে নেটে ব্যাট করছিলেন।

#

অবশ্য নেটে ব্যাট করার আগে কিছুটা সময় জাতীয় দলের ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতোর সঙ্গে কথা বলেন সাকিব। এরপর ঘাসে শুয়ে ক্যালেফাতোর অধীনে স্ট্রেচিং করলেন কিছুটা সময়। এরপর যান নেটে। নেট বোলাররা সবাই ছিলেন স্পিনার। তাদের বলে ব্যাট করতে মাঝে মধ্যেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। সদ্য ইনজুরি থেকে ফেরা এ তারকার জন্য এটা খুব স্বাভাবিকও বটে। তবে অস্বস্তিটা ছিল সুইপ শট খেলতে গিয়ে।

তখন এক নেট বোলারকে ডেকে তখন সাকিব বলেন, ‘অফ স্টাম্পের বাইরে বল দাও। এমন বল দিও না, যেন সুইপ খেলতে হয়।’

মূলত সুইপ শট খেলতে গেলে কুঁচকিতে টান লাগছিল সাকিবের। যে কারণে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতেই এমন সিদ্ধান্ত। অন্য সব শটে অবশ্য ব্যাট করতে কোনো বেগ পেতে হয়নি এ অলরাউন্ডারের।

ওইদিকে সেন্টার উইকেটে তামিমের অনুশীলন শেষের পথে। সাকিব অপেক্ষায় থাকেন। শেষ হলে যোগ দেন পেসারদের বল মোকাবেলা করতে। আর তামিম ফিরে আসেন নেটে, যেখানে এতক্ষণ অনুশীলন করছিলেন সাকিব।

মজার ব্যাপার, এসেই সেই অনুশীলন শুরু করেন তামিম, যে শটে সাকিব এতক্ষণ অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। প্রথমে একজন বাঁহাতি স্পিনারকে খোঁজেন তামিম। কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর অনুমতি নিয়ে তাইজুল ইসলামকে ডাকেন তিনি।

তাইজুল পরে হয়তো বুঝতে পেরেছেন কিংবা পারেননি। তবে একের পর এক সুইপ শট খেলে নিজেকে বেশ ঝালিয়ে নিলেন তামিম। শেষ বলটি খেলার আগে তামিম বললেন, ‘একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে যাক, জয়ের জন্য ১ বলে ৩ রান চাই। পারলে ঠেকা।’

তাইজুলের লেগ মিডল স্টাম্পে রাখা বলটি কিছুটা লাফিয়ে ওঠে। তামিম এবার আর সুইপ নয়, করলেন পুল। আবেদন তাইজুলের। আর ওইদিকে দুই হাত উঁচিয়ে ‘ইয়ে’ বলে চিৎকার তামিমের।

অনুশীলন করতে সমস্যা না থাকলেও মাঠে ফিরে নিজের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেলেন সাকিব। এ কারণেই হয়তো এদিন বেশি সময় না নিয়ে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে অনুশীলন সেরে ফেলেন তিনি। ব্যাটিং শুরুর কিছুক্ষণ পর তাসকিন আহমেদকে ডেকে পুরনো বলে বোলিং করতে বলেন সাকিব। তাসকিন ও নেট বোলারদের বিপক্ষে পৌনে ২টা পর্যন্ত ব্যাটিং করেন তিনি।

এরপর সাকিব চলে যান মাঝের উইকেটে ম্যাচ সিনারিও অনুশীলনে। মাঝের উইকেটে ব্যাটিং শুরুর আগে ব্যাটিং কোচ জন লুইসের সঙ্গে কিছুটা সময় শলা-পরামর্শ করে নেন তিনি। সাকিব যখন ব্যাটিং শুরু করেন, তখন সেখানে খুব বেশি ক্রিকেটার ছিলেন না। এবাদত হোসেন ও নেট বোলারের বিপক্ষে মিনিট দশেক ব্যটিং করে ২টা ৫৫ মিনিটে থামেন তিনি। পরে জুলিয়ান ক্যালেফাতোকে চোটের অবস্থা জানিয়ে মাঠ ছাড়েন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।

সাকিব অনেকটা একা একাই অনুশীলনে সময় কাটিয়েছেন। অনুশীলনে তাকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। সাকিব যখন পশ্চিম পাশে নেটে ব্যাটিং করেন, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হেসেন শান্ত তখন মাঝের উইকেটে ম্যাচ সিনারিওতে ব্যাটিং অনুশীলন করছেন। পয়েন্টে ফিল্ডিং করছিলেন মুশফিকুর রহিম। উইকেটরক্ষক মুশফিককে পয়েন্টে ফিল্ডিং করতে দেখে রসিকতায় মাতেন সাকিব। বলে ওঠেন, ‘মুশফিক পয়েন্টে ফিল্ডিং করে, এমন দিনও দেখতে হলো।’

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here