শীত তাড়াশের খেজুরের পাটালী চাহিদা বাড়ছে

0
131
#

তাড়াশ প্রতিনিধি:

শীত আসতেই শুরু হয়ে যায় চলনবিলাঞ্চলের তাড়াশ উপজেলায় সু-স্বাদু খেজুরের রস থেকে পাটালী গুড় তৈরীর ভরা মৌসুম। তাড়াশ অঞ্চলের এটেল মাটির খেজুর গাছের রস যেমন মিষ্টি ও সু-স্বাদু, তেমনী খেজুর গুড়ের রং এবং স্বাদ অন্য অঞ্চলের গুড়ের চাইতে সম্পুর্ণ আলাদা। তাই তাড়াশ এলাকার গুড়ের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে।

#

যা এখন অনেকটাই বাণিজ্যিক রুপ ধারণ করেছে। তাড়াশ এলাকার মানুষেরা শীতের দিনে জামাই মেয়ে সহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে দাওয়াত করে এনে খেজুরের রসের পিঠা খাওয়ানোর আয়োজন করে থাকে। নতুন ধান বাড়িতে আসার সাথে সাথে গ্রাম গুলোতে খেজুর রসের পিঠা খাওয়ার ধুম পরে যায় । সেই সঙ্গে বারে গুড়ের চাহিদা।

গত শনিবার ভোর সকালে সরেজমিন তাড়াশ উপজেলার কাঁস্তা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৩জন গাছিয়া গুড় তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কাজের ফাকে কথা হয় তাদের সাথে। রাজশাহীর বাঘা থেকে আগত গাছিয়া জাকির হোসেন জানান, রাত্রি ৪টায় খেজুর গাছ থেকে রস নামিয়ে ভোর ৫টার মধ্যে চুলায় রস জ্বাল দেয়া শুরু হয়।

প্রায় ১ঘন্টা জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় পাটালি, দানা, ঝোলা গুড়সহ নানা প্রকারের সু-স্বাদু গুড়। তিনি আর ও জানান, প্রতি কেজি গুড় ৮০ থেকে ৯০ টাকা  দরে বিক্রি করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে তা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন হাট-বাজারে। রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চল থেকে আসা গাছিয়াদের পাশাপাশি স্থানীয় গাছিয়ারাও একাজের সাথে যুক্ত থাকে। মৌসুমে প্রতিটা গাছে ৩ কেজি গুড় বা নগদ টাকা দিয়ে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত খেজুর গাছ ইজারা নিয়ে প্রতিটি চুলায় দিনে ৪০ থেকে ৫০ কেজি গুড় তৈরি করে। এতে মৌসুমে তাদের ব্যয় বাদে আয় হয় অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, তাড়াশ উপজেলায় শত বছরের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩০ হাজার খেজুর গাছ। তবে বর্তমানে খেজুর গাছ যে নির্দয়ভাবে প্রতিনিয়ত  নিধন করা হচ্ছে তাতে অদুর ভবিষ্যতে রসনাবিলাসী এসব খেজুরের গুড়ের প্রিয় মানুষেরা খেজুরের গুড় পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা,লুৎফুর নাহার লুনা বলেন, তাড়াশ সহ চলনবিলের খেজুরের গুড়ের সুনাম রয়েছে সব খানে।  খেজুর গাছ বৃদ্ধিতে ও গাছের সঠিক পরিচর্যা করতে গাছিয়াদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here