ঢাবিতে মেধা নয়, টাকায় শিক্ষক নিয়োগ

0
108
#

আলদ্দিন ওয়াজেদ:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে তিন প্রভাষকের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া একজন ও ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রিধারী পাঁচ প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ফলাফলে চতুর্থ ও দশম প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে বাছাই বোর্ড। টাকা বিনিময় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযাগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষক মহলে চলছে সমালোচনা ঝড়।গত ৩১ ডিসেম্বর এ ধরনের অনিয়মের সিধান্ত দেন শিক্ষক সিন্ডিকেট।

#

জানা গেছে শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নবিদ্ধ সুপারিশই বহাল রেখেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করছে।গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষক নিয়োগে বাছাই বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে প্রশ্ন উঠায় অধিকতর যাচাই করতে কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদনের জন্য উঠে। তবে সুপারিশ নিয়ে অভিযোগ থাকায়, তা গ্রহণ না করে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য একটি রিভিউ কমিটি করে দেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। বাছাই বোর্ডের প্রধান ছিলেন ঢাবির তৎকালীন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ। গত জুনে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে তার স্থলাভিষিক্ত হন অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। আগের সুপারিশ ‘অধিকতর যাচাই’ করে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন।

অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বিভাগের দুটি স্থায়ী শূন্য প্রভাষক পদ পূরণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ পদে চাকরির আবেদন পড়ে ২৬টি। আবেদনকারীদের মধ্যে গত বাছাই বোর্ডের সভায় মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ১৬ জন। তাদের মধ্য তিন জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে বাছাই বোর্ড। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে বাছাই বোর্ড। নিয়োগে সুপারিশ পান মো. রাফিউল ইসলাম রাঙ্গা, এস এম তানজিল শাহ ও মো. আবু সায়েম খান। তাদের কারও কোনো গবেষণা প্রকাশনা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে পিএইচডি করা ড. মোরশেদা মাহবুব, যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা ড. শুভ্র প্রকাশ নন্দী, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা ড. জিনাত জেরিন হোসাইন ও ড. জান্নাতুল ফেরদৌস এবং ঢাবি থেকে পিএইচডি করা ড. শারমিন জামান ইমনকে বাদ দেয় বাছাই বোর্ড।

এ ছাড়াও, সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আবু সায়েম খান ও এস এম তানজিল শাহর ব্যাচের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া নাদিরা নাজনীন রাখিকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেনি বাছাই বোর্ড।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ জনের মধ্যে রাখিই কেবল স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন। এমনকি ওই ব্যাচে জীববিজ্ঞান অনুষদের মধ্যেও প্রথম হন তিনি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার দুটি প্রকাশনাও রয়েছে।

নাদিরা নাজনীন রাখি বলেন, নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করেছি এবং পরীক্ষা দিয়েছি।

অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ বলেন, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষক নারী। বিভাগের চেয়ারম্যানের পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে একটা প্রাধান্য থাকতে পারে।

বাছাই বোর্ড সদস্য এবং অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দেন।

ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, যারা আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে পাঁচ জন দেশের বাইরের ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে আসা প্রার্থী। ভালো মেধাবীদের স্থান হয়নি শিক্ষক নিয়োগে।

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, ঢাবিতে  ভালো মানের স্কলার খুব বেশি নেই। আত্মসম্মান বোধ নিয়ে যে কজন আছেন, তারাও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন। যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ চলছে, তাতে আমি শঙ্কিত।

তিনি বলেন, নিয়োগ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে। ডেমো ক্লাস নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতামত নিতে হবে, তারা পড়া বোঝে কি না যাচাই করতে হবে। একটা সেমিনার দিতে হবে। শিক্ষকদের মতামত নিতে হবে। উপাচার্যের রুমে ১০ মিনিটের সাক্ষাৎকার দিয়ে শিক্ষকের চাকরি হয়ে যাওয়া মানে হলো, আমরা শিক্ষক নিয়োগকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাচার্যের থাকার কথা নয়। ওই বিভাগের শিক্ষকরা থাকবেন, বড়জোর ডিন থাকতে পারেন।’

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমি এই বিষয় কিছু বলতে পারবো না। বাছাই বোর্ড বলতে পারবে। নিয়োগের বিষয়টি কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলে আমরা সেটি খতিয়ে দেখি বলে জানা তিনি।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ডা. মো. রহমত উল্লাহ বলেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য বাছাই বোর্ড আছে।শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষক সমিতির কথা বলার সুযোগ নেই। এটি শিক্ষক সমিতির কাজের মধ্যেও পড়ে না।

টাইমস রিপোর্ট/ওজে/বিএইচ/

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here