দিবসে চালাচালি!

0
163
#

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিভিন্ন দিবসে মেসেস বা বার্তা দেওয়া হয়। আবার কেউ  দিবস চালাচালি করে খুব কমন কিছু বার্তা কিংবা  এসএমএস দেন।  মানুষ যাতে সহজই বুঝতে পাড়েন। সেই ভাবে তুলে ধরতে সামাজিক মাধ্যামেও পোস্ট করেন অনেকই।

#

আজ শুক্রবার সকালে দুবাই প্রবাসী সরদার জামাল সোহেল ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন দিবসে এসএস বিষয় বিস্তার কিছু তুলে ধরে একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো

বিভিন্ন দিবসে চালাচালি হওয়া খুব common কিছু বার্তা (sms/message)-একটু বুঝার চেষ্টা করি।

– নতুন বছর তোমার জন্য বয়ে আনুক… এটা… ওটা… সেটা…

– নতুন বছরে তুমি হয়ে যাও অমুক…তমুক…

– নতুন বছর তোমার জন্য হয়ে যাক এটা… সেটা…

– পুরাতন সব কিছু মুছে যাক, চলে যাক। নতুন বছর তোমাকে দিক… এই… ঐ…

– জন্মদিন বয়ে আনুক…

ভাবছেন, সমস্যাটা কোথায়? এবার দেখা যাক আমরা যারা উপরোক্ত style-এ মেসেজ করি তারাই ভিন্ন একটা সময়ে কিভাবে মেসেজ করে থাকি। যেমন ধরুন, কারো অসুস্থতায় message আসে:

– May Allah cure you soon.

– In sha Allah you’ll be fine very soon.

– আল্লাহ্‌ যেন তোমার কষ্ট কমিয়ে দেন, ধৈর্য ধরার তৌফিক দিন।

কারো অসুস্থতায় আমরা কিন্তু এভাবে message করি না:

– আজকের এই বুধবার তোমার জন্য বয়ে আনুক সুস্থতা।

– অমুক ক্লিনিক তোমার কষ্ট কমিয়ে দিক।

– May the treatment cure you soon.

– পুরনো হাসপাতালে যা হবার হয়েছে, ভুলে যাও। নতুন এই হাসপাতাল তোমাকে দিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু।

আশা করি সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা সকলে স্পষ্টই বুঝতে পেরেছেন। এবার প্রথম মেসেজগুলির সমস্যা কোথায় দেখা যাক: ‘নতুন বছর তোমার জন্য বয়ে আনুক…’ বা ‘জন্মদিন বয়ে আনুক…’ – নতুন বছর, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকীর কোনো ক্ষমতা নেই কিছু বয়ে আনার। আল্লাহ্‌ যে সকল দিন-রাত-মাসকে বরকতময় করে জানিয়ে দিয়েছেন, মুমিনদের জন্য কেবলমাত্র সেগুলিই বিশেষ বরকতময়।

 

‘নতুন বছরে তুমি হয়ে যাও…’ বা ‘নূতন বছর তোমার জন্য হয়ে যাক…’ – অথচ দেখুন, একমাত্র আল্লাহ্‌ যখন বলেন ‘হয়ে যাও’ বা ‘হও’ তখন হয়ে যায় (আল কুরআন-১৬:৪০, ৩৬:৮২)। আমাদের ‘হয়ে যাও’ sms-এ কিচ্ছু হবার ক্ষমতা নেই। “আল্লাহই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতার অধিকারী।” (আল কুরআন-৩:১৮৯) এবং “তিনি যাকে ইচ্ছা নিজের বিশেষ অনুগ্রহ দান করেন।” (আল কুরআন ৩:৭৪)

‘পুরাতন সব কিছু মুছে যাক, চলে যাক, ভুলে যাও…’ – বিষয়টি এতো সহজ নয়। পুরাতন ভালোমন্দ সবকিছুর হিসাব দিতে হবে (সুরা-ফাতিহা:৪, এছাড়াও কুরআনের অসংখ্য আয়াতে বিচার দিবস এবং সকল কর্মকান্ডের হিসাবের কথা বলা হয়েছে একাধিক বার।) নতুন বছর আসার সাথে সাথে পুরাতন কর্মকান্ডকে ভুলে যাবার বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই। আমি আপনি ভুলে গেলেও আল্লাহ্‌ ভুলবেন না। বরং পুরাতন গুনাহর জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, তওবা করতে হবে, আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাইতে হবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

practicing muslims-রাও এমন মেসেজ পাঠিয়ে থাকি এবং এত ভেবেচিন্তে পাঠাই না। হয়তো এত কিছু mean-ও করি না। কিন্তু নিশ্চই কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারছি যে, আমাদের কথাবার্তাতেও সাবধান হবার মতো অনেক বিষয় থাকতে পারে এবং আছেও বৈকি। আমারা কথাবার্তায় অনেক ছোট ছোট শিরকে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি যে শিরক হিসাবে চিহ্নিত করলে কেউ কেউ রেগে যাই এবং বলে বসি বিষয়টি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে, কথাবার্তাতে এতটা সাবধান হওয়া যায় না। অথচ আল্লাহ্‌ বলেন “হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।” (আল কুরআন-৩৩:৭০) আল্লাহ্‌ আমাদের জ্ঞান দাও যেন আমরা সব সময় সঠিক কথা বলতে পারি।

লেখক: সরদার জামাল সোহেল, দুবাই প্রবাসী

টাইমস রিপোর্ট/বিএইচ/নীল/

Facebook Comments

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here